বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় নিজ বাড়ির সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক নারী। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার স্বর্ণের কানের দুল, গলার চেইন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলায় তার কানের লতি ছিঁড়ে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ময়না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আফরোজা বেগম সন্ধ্যায় বাজারে গিয়েছিলেন। পরে বাড়ির গেটে তালা দিতে গিয়ে তার মা মাজেদা বেগম ও বড় বোন ফরিদা বেগম দেখতে পান, তালায় চাবি আটকে গেছে। তারা আফরোজাকে ফোন করে বাড়িতে ডাকেন। আফরোজা বাড়িতে এসে তালা থেকে চাবি বের করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। এ সময় তার মা ও বড় বোন পুনরায় বাজারে নাস্তা আনতে গেলে আফরোজা একাই গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন।
এ সুযোগে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তিন দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এসে তার মুখ চেপে ধরে হামলা চালায়। পরে তারা আফরোজার কানের স্বর্ণের দুল, গলার চেইন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। হামলার সময় টানাহেঁচড়ায় তার কানের লতি ছিঁড়ে যায়। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে আফরোজা বেগম বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা মাজেদা বেগম বলেন, আমরা বাজারে যাওয়ার সময় গেটের তালায় চাবি আটকে যায়। পরে ছোট মেয়েকে ডেকে আনি। কিছুক্ষণ পর খবর পাই, তার ওপর হামলা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আফরোজা বেগম বলেন, তালা থেকে চাবি বের করার সময় হঠাৎ তিন যুবক পেছন থেকে এসে আমার মুখ চেপে ধরে। তারা আমার কানের দুল, গলার চেইন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। নিজের বাড়ির সামনেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে চলাফেরা করবে? আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।