স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গভীর রাতে বাজারের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন এক নছিমন চালক। অন্যের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া বাবুল মোল্যার (৪০) মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত বাবুল মোল্যা ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের হরিহরনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের আতিয়ার মোল্যার ছেলে। তিনি ছিলেন চার কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ের বয়স মাত্র চার মাস। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবুলের মৃত্যুতে তার পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের ভেন্নাতলা বাজারে গভীর রাতে নুর ইসলামের মুদি দোকান ‘নুর স্টোর’ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে। আগুনে মোট ৫টি দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় পাইকারি মুদি দোকান ব্যবসায়ী নুর ইসলামের প্রায় ৫০ লাখ টাকা, টেইলার্স ব্যবসায়ী জাকির হোসেনের প্রায় দেড় লাখ টাকা, কীটনাশক ব্যবসায়ী কেসমত আলী, ভ্যান-সাইকেল গ্যারেজ মালিক বাবর আলী এবং শাহেব আলীর চায়ের দোকানের মালামালসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
দোকান মালিকরা বলেন, আমরা প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। ভোর রাতে খবর পেয়ে এসে দেখি আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।
আগুনের খবর মসজিদের মাইকে প্রচার হলে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় জাকিরের টেইলার্সের মালামাল বের করার সময় পাশের বাবর আলীর গ্যারেজে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের আঘাতে নছিমন চালক বাবুল মোল্যা গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং বাবুল প্রাণ হারান।
নিহতের স্বজনরা জানান, বাবুল মোল্যার একার উপার্জনে সংসার চলতো। মানুষের বিপদে এগিয়ে গিয়ে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করতে গিয়ে তিনি নিজের জীবন হারিয়েছেন। এখন স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।
নিহতের স্ত্রী রোজিনা বেগম স্বামীর মৃত্যুর খবরের পর বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। স্বজনদের দাবি, ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতা পেলে অসহায় পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ঘটনাটি আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধ্যে ঘটেছে। আমি ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে নিহতের বাড়ি যেহেতু বোয়ালমারীতে, সে হিসেবে আমরা বিষয়টি দেখব।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিশিয়াল নাম্বারে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। এজন্য তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে নিহত বাবুল মোল্যার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।