প্রিন্ট ভিউ
ভ্রাম্যমাণ রিপোর্টার: ভালোবাসার টানে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করেছিলেন মীম বেগম (২২)। স্বপ্ন ছিল ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ার। কিন্তু সেই সংসারেই শেষ হলো তার জীবন। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ভাবড়াশুরে স্বামীর মারধরের অভিযোগের পর মীমের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মো. তারিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
মীম বেগমের স্বামী মো. তারিকুল ইসলাম ভাবড়াশুর গ্রামের মো. সরোয়ার শিকদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মীম ছিলেন তারিকুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে মো. তারিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে মীম সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে নতুন জীবনে পা রাখলেও বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, রোববার পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে মীমকে মারধর করা হয়। পরে তারিকুল ইসলাম প্রতিবেশী আলামিন মৃধার স্ত্রী রিনা বেগমকে তার স্ত্রীর কি অবস্থায় রয়েছে সেটা দেখে আসতে বলেন। রিনা বেগম সেখানে গিয়ে মীমকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় মীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর থেকে মীমের স্বামী মো. তারিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার অবস্থান শনাক্ত ও ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিয়ে, ধর্ম পরিবর্তন করে নতুন সংসারে যাত্রা-সবশেষে মীমের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এ ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহের ভূমিকা কতটা-তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।