• ঢাকা
  • সোমবার , ২২ জুন ২০২৬ , রাত ০২:৪১
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

ঈদগাহ ও গোরস্তানের সম্পদ রক্ষায় গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন- দুই দশকের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ ও বাঁশ কাটার ঘটনায় তদন্তের দাবি

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
ঈদগাহ ও গোরস্তানের সম্পদ রক্ষায় গ্রামবাসীর সংবাদ সম্মেলন- দুই দশকের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ ও বাঁশ কাটার ঘটনায় তদন্তের দাবি প্রিন্ট ভিউ

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পূর্ব ভাটদী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ও গোরস্তানের সম্পদ রক্ষা, দীর্ঘদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গ্রামের সর্বস্তরের সচেতন বাসিন্দারা।

শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে পূর্ব ভাটদী গ্রামে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়রা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ঈদগাহ ও গোরস্তানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাহ ও গোরস্তানের সরকারি বরাদ্দ, স্থানীয়দের অনুদান, দান-সদকা এবং ঈদের নামাজের সময় মুসল্লিদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব গ্রামের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অতীতে একাধিকবার কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঈদগাহ ও গোরস্তানের গাছপালা ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থানীয়দের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ঈদগাহ ও গোরস্তানের জায়গায় থাকা বিপুল পরিমাণ বাঁশ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তাদের দাবি, সাবেক কমিটির সভাপতি ও বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ ইসহাক মৃধার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে এসব বাঁশ কাটা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা বলে তারা দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঈদগাহ ও গোরস্তান কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়, এটি পুরো গ্রামের মানুষের আমানত। তাই এর আয়-ব্যয় এবং সম্পদের ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। তারা গত প্রায় দুই দশকের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, বাঁশ কাটার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ সময় বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ঈদগাহ ও গোরস্তানের সম্পদ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব ভাটদী গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিম, মীর রমজান, শাহ জালাল আহমেদ, মো. মোজাম্মেল, মো. কালাচানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন