প্রিন্ট ভিউ
মোঃ ইমরান মোল্লা আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সুমাইয়া শিমু (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার শৈলমারী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে সুমাইয়ার স্বামী মোঃ জসীম কাজী গা-ঢাকা দিয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়াকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সুমাইয়া শিমু শৈলমারী গ্রামের মোঃ মোস্তফা শেখের মেয়ে। পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার স্বামী জসীম কাজী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ২০১৮ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির শামিউল বারী (৬) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। শুক্রবার দুপুরের দিকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের পর সুমাইয়া পাশের গ্রামে পাকুড়িয়ায় তার মেজ বোনের বাড়িতে ছেলেকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে, নিজ বাড়ির দিকে চলে আসেন। পরে তাকে কোথাও পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
সুমাইয়ার ছোট বোন মিম অভিযোগ করেন, জসীম কাঠমিস্ত্রির কাজ করলেও নিয়মিত কাজ করতেন না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং জসীম বাড়ির কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলে তিনি দাবি করেন।
সুমাইয়ার বোন মিম খাতুনের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে তারা জসীমকে সুমাইয়াকে খুঁজতে বলেন। এ সময় জসীম তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ তার। সুমাইয়ার বোন মিমের দাবি, জসীম বলেছিলেন, ‘সুমাইয়া বাড়িতে আসুক, পেট্রোল এনে ঘরে আগুন দিয়ে সব জ্বলিয়ে দিবো।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, এ কথার পর তারা উদ্বিগ্ন হয়ে সুমাইয়াকে আশপাশে খুঁজতে থাকেন। মাগরিবের আগে জসীমের বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালা দেওয়া দেখতে পান তারা। পরে সন্ধ্যার দিকে জসীম ফোন করে সুমাইয়ার এক স্বজনকে জানান, সুমাইয়া গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এরপর পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে গিয়ে সুমাইয়ার লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে শাড়ির ছেঁড়া পাড়ের অংশ দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান। তাদের দাবি, লাশটির পা মেঝেতে ঠেকে ছিল। এ অবস্থায় তারা সুমাইয়ার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
সুমাইয়ার আরেক বোন সুরাইয়া বলেন, ‘আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ঘটনার আগে সে ছেলেকে বোনের বাড়িতে রেখে এসেছিল। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
নিহতের মা হাবিবা বেগমেরও অভিযোগ, সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিকেল থেকে আমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছিল না। জসীমের বাড়িতে তালা দেওয়া ছিল। পরে কীভাবে আমার মেয়ে ওই ঘরে গেল, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্ন। আমরা মনে করছি, তাকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন না, ওকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগ, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জসীম কাজী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।