প্রিন্ট ভিউ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৯৫ বছরের জীবনের ইতি টেনে চিরবিদায় নিলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা কাওসার বিশ্বাস। তিনি কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাসের পিতা।
বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাওসার বিশ্বাস দীর্ঘ জীবনে অত্যন্ত সৎ, সহজ-সরল ও সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন। সংসার ও সন্তানদের ঘিরেই কেটেছে তাঁর জীবনের বড় একটি সময়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, তিন মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর বড় ছেলে আলিম বিশ্বাস বোয়ালমারী পৌরবাজারের চাল ব্যবসায়ী। মেজ ছেলে আজিমুদ্দিন বিশ্বাস কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব। সেজ ছেলে শামীম আহমেদ বিশ্বাস জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা এবং ছোট ছেলে রানা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। জীবদ্দশায় তিনি তাঁর সব সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত ও বিবাহিত করে গেছেন।
বাবার মৃত্যুর পর শোকাহত অতিরিক্ত সচিব আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা আমাদের কাছে আদর্শের প্রতীক ছিলেন। তিনি আমাদের সব ভাই-বোনকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করেছেন। কখনো আমাদের অভাব বুঝতে দেননি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি আমাদের আগলে রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার বাবার ব্যবহারে বা আচরণে কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন।
সেজ ছেলে শামীম আহমেদ বিশ্বাসও বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁর বাবাকে জান্নাতবাসী করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাওসার বিশ্বাস ছিলেন এলাকার একজন প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তি। দীর্ঘ জীবনে তিনি সবার সঙ্গে অমায়িক আচরণ করেছেন। ছোট-বড় সবার কাছেই তিনি ছিলেন প্রিয় ও শ্রদ্ধার মানুষ।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, কাওসার চাচা আমাদের এলাকার একজন অভিভাবকতুল্য মানুষ ছিলেন। তাঁর মতো ভালো ও অমায়িক মানুষকে হারানো আমাদের জন্যও কষ্টের।
সোমবার এশার নামাজ শেষে দক্ষিণ কামারগ্রাম পুরাতন জামে মসজিদের সামনে মরহুম কাওসার বিশ্বাসের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে কামারগ্রাম মাদরাসা গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মরহুমের বিদায়ে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। তাঁর দীর্ঘ জীবনের সততা, সরলতা ও অমায়িক ব্যবহৃতিই এখন স্বজন ও এলাকাবাসীর স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।