প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রামের মাঠে ফসলি জমির পাশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই ড্রেজারের হুইল মেশিন ব্যবহার করে ভূগর্ভের প্রায় ৪০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাটাগড় নিচুপাড়া এলাকায় ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু বর্তমানে নুরমান মোল্যার জমিতে ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্রেজার মেশিনটির মালিক কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা ইকবাল। বোয়ালমারী এলাকায় বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম দেখভাল করছেন আকরাম মোল্যা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে ভরট কাজে বিক্রি করা হচ্ছে।
ড্রেজার মালিক ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমাকে কাশিয়ানী থেকে আনা হয়েছে। এখানে সবকিছুর দায়িত্ব আকরাম মোল্যার। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন।
এ বিষয়ে আকরাম মোল্যার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বোয়ালমারীর সাংবাদিক ভাইরা ঠিক থাকলে, প্রশাসনের বাপেরও ক্ষমতা নেই আমার ড্রেজারের কাছে আসার। বোয়ালমারীর সাংবাদিক ভাইরা ঠিক থাকলে আমি এসব ভয় পাই না। আমি প্রশাসন ও সাংবাদিক ম্যানেজ করেই কাজ করছি। আমার কাজে কেউ বাধা দিতে পারবে না। টাকা ছাড়া কি এসব কাজ করা যায়? সবাইকে খুশি করব।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ড্রেজারের মাধ্যমে গভীর থেকে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের ফসলি জমি দেবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভূমিধস, জমিতে ফাটল, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পরিবেশের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভ থেকে অতিরিক্ত গভীরতায় ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করলে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যেতে পারে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সরকারি অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত ড্রেজার, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন জব্দ করারও বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিবেশের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড্রেজার দিয়ে কোনোভাবেই অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলনের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।