• ঢাকা
  • শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬ , ভোর ০৪:১৬
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

বোয়ালমারীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন, পরিবেশ হুমকিতে

রিপোর্টার : স্টাফ রিপোর্টার
বোয়ালমারীতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন, পরিবেশ হুমকিতে প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকুল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কান্দাকুল গ্রামের বাসিন্দা শহিদুলের একটি পুকুর থেকে প্রায় ১৫ দিন ধরে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু ব্যবসায়ী আউয়াল ও আল আমিনের নেতৃত্বে চক্রটি উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে ভরাট কাজের জন্য বিক্রি করছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি আশপাশের জমি ধসে পড়া, ভূমির স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়া এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকেও অনুমতি ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ৭ক ধারায় ড্রেজার মেশিন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিজস্ব প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বালু বা মাটি উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আইন উপেক্ষা করেই প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রতি ঘনফুট বালু উত্তোলনের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল আমিন বলেন, আমাদের মেশিনটি শহিদুল নামে একজন প্রতিদিন দেড় হাজার টাকা ভাড়ায় নিয়েছেন। এছাড়া চারজন শ্রমিক কাজ করেন, তাদের প্রত্যেককে দৈনিক ৭০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। ১৫ থেকে ২০ দিন মাটি কাটলে কোনো অনুমোদন লাগে না। এর আগে কয়েকজন সাংবাদিকও এসেছিলেন।

জমির মালিক মো. শহিদুল মুঠোফোনে বলেন, আমি বর্তমানে মাঠে কাজে আছি। আগে থেকেই এখানে একটি পুকুর ছিল। বাকি অংশ ড্রেজার মালিকদের দিয়ে কাটানো হচ্ছে। উত্তোলিত বালু আমার নিজের প্রয়োজনে এবং কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেছি।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয়

সারাদেশ

আরও পড়ুন